আইপিএল নিলামে সাকিবকে নিয়ে ৩ দলের কাড়াকাড়ি হতে পারে

এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ৪০০ বেশি উইকেট নেওয়া ষষ্ঠ বোলার সাকিব। ব্যাট হাতে আছে পাঁচ হাজারেরও বেশি রান। তার চেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলের সাম্প্রতিক পারফর্মেন্স কথা বলছে সাকিবের হয়ে। তাই আসন্ন আইপিএল মেগা নিলামে প্রথম সারিরর দিকেই দলগুলোর নজরে থাকবেন মিস্টার অলরাউন্ডার।

চলতি বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে শেষ চার ম্যাচে বলে-ব্যাটে দারুণ পারফর্ম করছেন সাকিব আল হাসান। দলকে জিতিয়ে চার ম্যাচেই নিজে জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। আইপিএলে গত মৌসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছিলেন। তার আগে খেলেছেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে

এদিকে মোট ৭১টি আইপিএল ম্যাচে ৭৯৩ রান করার পাশাপাশি ৭.৪৩ ইকোনমিতে ৬৩টি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এবারের আইপিএল নিলামে সর্বোচ্চ মূল্য ক্যাটাগরি ২ কোটিতেই আসেন সাকিব। চলুন এখন দেখে নেওয়া যাক আসন্ন আইপিএল নিলামে সাকিব আল হাসানকে দলে পেতে কোন তিনটি দল সবচেয়ে বেশী আগ্রহী হবে।

১। পাঞ্জাব কিংস:- পাঞ্জাব কিংসের বিগত কয়েকটি আসর জুড়ে দেখা গিয়েছে মিডল অর্ডারে নির্ভরযোগ্য ব্যাটারের ঘাটতি। ওপেনাররা সিংহভাগ রান করে আসার পরেও মিডল অর্ডারে দীপক হুডা, শাহরুখ খান, সরফরাজ খানরা ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি। চাপের মুখে অনভিজ্ঞ ব্যাটাররা খেই হারিয়ে ফেলেছে।

এই সমস্যাটি দূর করার জন্য সাকিব কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারেন। ২০১২ আইপিএল ফাইনালে ছয়ে ব্যাট করতে নেমে সাকিবের স্বল্প কিন্তু প্রবল গুরুত্বপূর্ণ ৭ বলে ১১ রানের অপরাজিত ইনিংস কেই বা ভুলতে পারে। সেই সঙ্গে পাঞ্জাবকে পঞ্চম বোলার হিসেবে পার্ট-টাইমারদের উপর ভরসা করে থাকতে হবে না। তা ছাড়া পাঞ্জাব এখনও অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি। শাকিবকে দলে পেলে মোহালির ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে অধিনায়ক হিসেবেও ভেবে দেখতে পারে!

২। কলকাতা নাইট রাইডার্স: নাইটরা আইপিএলের ইতিহাসে যে তিনটি ফাইনাল জিতেছে, তার প্রত্যেকটি ম্যাচের একাদশে একটি নাম অপরিবর্তিত থেকে গেছে, সেটি হল সাকিব আল হাসানের নাম। নাইটদের প্রায় ঘরের ছেলে হয়ে যাওয়া সাকিবের জন্য কেকেআর এবারও দর হাঁকতে পারে। নাইট রাইডার্স সাধারণত দল গঠনে ধারাবাহিকতা রাখায় বিশ্বাসী। তাই ২০২১-এ আসরের অন্যতম বিশ্বস্ত বিদেশী ক্রিকেটারের আরও একবার বেগুনী জার্সিতে প্রত্যাবর্তন হতেই পারে।

গত বছর নাইটদের হয়ে ৮ ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন ৭.১৯-এর অসামান্য ইকোনমি রেটে। এছাড়া সাকিবকে দলে নিলে ফ্র্যাঞ্চাইজি আরও একটি সুবিধা পেতে পারে তা হল বাংলাদেশে তাঁর সমর্থক অসংখ্য এবং কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজির বাঙালী আবেগের সঙ্গে তাঁদেরকে একাত্ম বোধ করানো যাবে সাকিবকে দলে রাখলে।

৩। রাজস্থান রয়্যালস: রাজস্থান রয়্যালসে যতোদিন বেন স্টোকস ছিলেন, ততোদিন দলে তিনি একটি মজবুত ভারসাম্য আনতেন। মিডল অর্ডারে নেমে পরিস্থিতি বুঝে কখনও সময় নিয়ে গড়তেন, তো কখনও নেমেই বিস্ফোরক ব্যাটিং করতেন। সঙ্গে গুরুত্বুপূর্ণ ওভারে হাত ঘুরিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতেন! তবে চোটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্টোকসের থেকে রয়্যালস তেমন বেশী পরিষেবা না পাওয়ায় রিয়ান পরাগ বা মহীপাল লোমররকে অলরাউন্ডারের ভূমিকা দিচ্ছিলো ফ্র্যাঞ্চাইজি, কিন্তু তাঁরা আশানুরূপ ফল দিতে পারেননি।

এই জায়গাটিতে সাকিব আল হাসানকে নেওয়া হলে তিনি মিডল অর্ডারে স্থিতিশীলতা দিতে পারবেন। সঙ্গে ৪ ওভারের নিশ্চয়তা। ওই চার ওভারে তিনি বেশী উইকেট না তুললেও রান চেপে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সাকিবের আরও একটি ভালো গুণ হল তিনি পাওয়ারপ্লেতেও বোলিং করার ক্ষমতা রাখেন। এ ছাড়া তরুণ অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন অভিজ্ঞ সাকিবের থেকে চাপের সময় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও আশা করতে পারেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*