নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা

শীতলক্ষ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ রুটে অনির্দিষ্টকাল লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। আজ সোমবার (২১ মার্চ) থেকে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী সব লঞ্চ অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জগামী যাত্রীরা মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে এসে ভিড় জমান। এ সময় ঘাটের ইজারাদারের লোকজন লঞ্চ বন্ধ রয়েছে বলে যাত্রীদের জানান।

গতকাল রবিবার (২০ মার্চ) দিবাগত রাতে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোমবার (২১ মার্চ) থেকে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ রুটে চলাচলকারী সব লঞ্চ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই রুটে ২০-২২টি লঞ্চ চলাচল করে, সেগুলো বন্ধ থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। লঞ্চটি উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার কাশিপুর খালের উত্তর পাড়ে রাখা হয়েছে। এদিকে উদ্ধারের পর লঞ্চের ভেতরে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। এ কারণে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

এর আগে রবিবার (২০ মার্চ) রাত পৌনে ১০টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে রাতের মতো তল্লাশি অভিযান স্থগিত রাখেন উদ্ধারকর্মীরা। এর আগে রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মুন্সিগঞ্জগামী এম এল আফসার উদ্দিন নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চকে সিটি গ্রুপের এম ভি রুপসী-৯ নামের কার্গো জাহাজ ধাক্কা দিলে মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যায়। এই লঞ্চডুবির ঘটনায় ছয়জনের মরদেহ এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন নারী, দুইজন শিশু ও একজন বৃদ্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- মুন্সিগঞ্জের ইসলামপুর এলাকার মৃত জুলফিকার আলীর ছেলে জয়নাল (৫৫), মুন্সিগঞ্জের দিন ইসলামের স্ত্রী আরিফা বেগম (৩৫) ও তার ১৫ মাস বয়সী ছেলে সন্তান সাফায়েত। নারায়ণগঞ্জ নৌথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*