পুত্রের অকাল মৃত্যুর শোক ভুলে বিধবা পুত্রবধূর ফের বিয়ে দিলেন শ্বশুর

চরম আর্থিক সঙ্কটের পাশাপাশি একমাত্র ছেলের অকাল মৃত্যুর শোককে সঙ্গী করেই দিন কাটছিল। কিন্তু কোনও কি‌ছুই তার বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী মনকে বশ মানাতে পারেনি।

পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার বার্তা নিয়ে ঘুরে বেড়ান হলদিয়ার অনন্তপুরের বাসিন্দা পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চের যুক্তিবাদী সেলের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের সম্পাদক নকুল ঘাটি। তবে তার আরেকটি পরিচয় তিনি ‘স্নেক ম্যান’।

সাপ দেখলে তাকে মেরে ফেলা নয়, বরং মানুষের বেঁচে থাকার সুস্থ পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সাপ বাঁচানোর বার্তা নিয়ে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান। যেখানেই বিষধর সাপ দেখার খবর আসে, উদ্ধারে ডাক পড়ে নকুলের। এহেন নকুল ছেলেকে হারিয়েও পুত্রবধূর ভবিষ্যৎ জীবনের প্রশ্নে ফের তার বিয়ে দিয়ে সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যেন লড়াই জারি রাখারই বার্তা দিলেন তিনি।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই ২০২০ সালে ১৮ অক্টোবর একমাত্র ছেলে অর্ণব ঘাটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। অর্ণবের ও শুভ্রার তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পরে শুভ্রা বাপের বাড়ি ফিরে যাননি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া শ্বশুরবাড়ির পাশে থেকেছেন। বছর পঁচিশের শুভ্রার অকাল বৈধব্য নকুলকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করলেও বৌমা ও নাতির ভবিষ্যতের প্রশ্নটাই তার কাছে বিরাট হয়ে দেখা দিয়েছেল।

নকুলের কথায়, “আমি ও আমার স্ত্রী ভাবতাম অল্প বয়সে বিধবা হয়ে একাকী কীভাবে বাঁচবে বৌমা। নাতির ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তায় হত। তাই সমাজে নানা কথা উঠবে জেনেও বৌমার ফের বিয়ে দেওয়া স্থির করি।”

তার কথায়, “বৌমা অবশ্য রাজি ছিল না আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। তাকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করাই। সন্ধান মেলে পাত্রের। রামগোপালচকে বাসিন্দা বেসরকারি সংস্থার কর্মী ওই পাত্রের পরিবার আমাদের প্রস্তাবে রাজি হন।”

সোমবার করোনাবিধি মেনে বিজ্ঞানমঞ্চের সদস্য থেকে বিভিন্ন পেশার মানুষের উপস্থিতিতে চারহাত এক হয় মধু ঘাটি ও শুভ্রা মালাকার ঘাটির। হলদিয়া বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদক মণীন্দ্রনাথ গায়েন বলেন, “নকুল আজকের ঘটনায় একটি উজ্ব্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।” সূত্র: আনন্দবাজার

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*