বাংলাদেশে উপেক্ষিত মুন্না ভিন দেশের প্রধান কোচ!

‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতির শিকার’ হয়ে খেলোয়াড়ি জীবন বেশি দূর এগিয়ে নিতে পারেননি। তাই বলে ভেঙে পড়েননি মইনুল ইসলাম মুন্না। ব্যাডমিন্টনকে ধ্যান-জ্ঞান মেনে এগিয়ে চলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন ছেড়ে মনোনিবেশ করেছেন কোচিংয়ে। আর সেই কোচিংই তাকে এখন সাফল্য এনে দিচ্ছে। ভারতের তিন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে হয়েছেন মরিশাস জাতীয় দলের প্রধান কোচ।

১ মার্চ থেকে মুন্নার নতুন পথচলা শুরু হবে। তিন বছরের জন্য মরিশাস ব্যাডমিন্টনের দায়িত্ব থাকছে ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশির কাঁধে। পারিশ্রমিকও কম পাবেন না। মাসিক ২ হাজার ডলার করে বেতন তো পাবেনই, এছাড়া রয়েছে অন্য সুযোগ-সুবিধা। এরইমধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে আছে। এখন শুধু পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে উড়াল দেওয়ার অপেক্ষা।

এই পর্যন্ত আসতে লেভেল-১ কোর্স করা মুন্নার অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ২০১৩ সালে জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে সিনিয়র পর্যায়ে নাম লেখানোর তখন অপেক্ষা, তবে ভাগ্য সহায় হয়নি। ‘নোংরা রাজনীতি’ দেখে একটু একটু করে দূরে সরে আসেন। তবে ব্যাডমিন্টনকে ভুলে যাননি। নাম লেখাতে শুরু করেন কোচিংয়ে। ঠিক দুই বছর পর মালয়েশিয়ার নিউ ভিশন অ্যাকাডেমিতে কাজের সুযোগও চলে আসে।

সেখানে কাজ করেছেন টানা ৫ বছর। ‍মুন্না সেই স্মৃতি রোমন্থন করেছেন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে, ‘খেলোয়াড়ি জীবনে নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে কোচিং জীবনকে বেছে নিয়েছি। নিখিল, শিবলি ও রাজু স্যারের সহায়তায় আজ আমি একটি দেশের হেড কোচ হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছি। এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। ভালো লাগারও। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।’

সিলেট থেকে উঠে এসে মরিশাসে কোচ হিসেবে সুযোগ পাওয়াটা মুন্নার কাছে বড় প্রাপ্তি। মরিশাসে হেড কোচের জন্য ভারতের তিন জন আবেদন করেছিলেন। এরমধ্যে একজন তো লেভেল-২ কোর্স করা ছিল। কিন্তু মুন্নার অতীত অভিজ্ঞতা দেখে তাকেই বাছাই করা হয়েছে। এজন্য অবশ্য মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন মরিশাসের খেলোয়াড়দের কোচিং করানোটা বেশ কাজে দিয়েছে।

মুন্না বলেছেন, ‘মালয়েশিয়ার অ্যাকাডেমিতে থাকতে মরিশাসের খেলোয়াড়দের কোচিং করিয়েছি। আমার কাজ তখন ওরা পছন্দ করে। এরপরই ওদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়ে যায়। হেড কোচ নিয়োগের সময় ওরা সবকিছু বিবেচনা করেছে। তাই ভারতের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে চাকরিটা পেতে সহজ হয়েছে। আসলে ভারত আমাদের চেয়ে সবদিক দিয়ে এগিয়ে। তাদের প্রতিযোগীকে হারিয়ে হেড কোচ হওয়াটা আমার কাছে বড় বিষয়।’

ভিন দেশে হেড কোচ হয়ে কাজ করার অপেক্ষায় থাকা মুন্না উচ্ছ্বসিত। কিন্তু মনের কোণে কিছুটা আফসোসও আছে। নিজ দেশে অনেকটা উপেক্ষিত থেকে গেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন থেকে শুরু করে কোচিংয়ে এসেও!

পরিতাপের সুরে ‍মুন্না বললেন, ‘বাংলাদেশের চেয়ে মরিশাসের ব্যাডমিন্টন ভালো পর্যায়ে আছে। র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে ওরা। তবে আমার দেশে কাজ করতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু দেশে তো সেভাবে সুযোগ মিলে না। তাই ভিন দেশে কাজ করতে হচ্ছে।’

সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘সবশেষ মালয়েশিয়া থেকে একজনকে আনা হয়েছিল (বাংলাদেশের কোচ হিসেবে), তার যোগ্যতা আমার চেয়ে কম! তবে একদিন স্বপ্ন দেখি লাল-সবুজ দলের হয়ে কোর্টে কাজ করবো। দেশের ব্যাডমিন্টনকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবো।’

নিজের স্বপ্নকে আরও উঁচুতে মেলে ধরতে মুন্না উচ্চতর প্রশিক্ষণের বিকল্প ভাবছেন না। একসময় লেভেল-৩ কোচিং ডিগ্রি নিয়ে নিজেকে আরও শানিত করতে চান।

কাতারে নিখিল চন্দ্র ধর প্রথম বাংলাদেশ থেকে কোচ হয়েছিলেন। এবার মুন্না সেই পথে পা দিতে পেরে রোমাঞ্চিত!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*