সজিবকে তালাক দিয়ে মামুনকে বিয়ে করবো, বললেন গৃহবধূ

স্বামীর ফুপাতো ভাইয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে তাকে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বোনের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সুতাপাড়া গ্রামে। গত বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে প্রেমিককে বিয়ের দাবিতে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। এ ঘটনায় ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রেমিকের বোনজামাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনমাস আগে উপজেলার সুতাপাড়া গ্রামে সোহরাব হোসেনের ছেলে সজিব মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় ওই নারীর। প্রেমের বিয়ে হওয়ায় সজিবের পরিবার এ সম্পর্ক ভালোভাবে নেয়নি। বিয়ের কিছুদিন পরই ওই নারী বাবার বাড়ি চলে যান। সজিবও শ্রমিকের কাজ করতে চলে যান সিলেটে। এ সময়ের মধ্যে সজিবের ফুপাতো ভাই কিশোরঞ্জ সদর উপজেলার পাটধা গাবতলী গ্রামের মৃত মফিজ মিয়ার ছেলে মামুনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই নারী।

গত বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিয়ের দাবিতে মামুনের বাড়িতে চলে যান তিনি। কিন্তু এর আগেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় মামুন। একইদিন আত্মীয়রা ওই নারীকে গ্রামে ফিরিয়ে আনলে তিনি মামুনের ভগ্নিপতি মো. হারিছ মিয়ার বাড়িতে অবস্থান নেন। গত পাঁচদিন ধরে সেখানেই আছেন। আজ রোববার বিকেলে (৬ ফেব্রুয়ারি) ওই নারীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিনিধির। তিনি বলেন, ‘মামুনের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক আছে। সে আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাকেই বিয়ে করবো। এখান থেকে কিছুতেই যাবো না।’

তিনমাস আগে সজিবকে বিয়ে করেছেন। তাহলে ওই বিয়ের কী হবে, এমন প্রশ্নে ওই নারী বলেন, ‘সজিবকে তালাক দিয়ে মামুনকে বিয়ে করবো’। এই বিষয়ে মামুনের বোন হোসনা বেগম বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্কের বিষয়ে জানতাম না। তার বাবা-মা তাকে এখানে রেখে গেছেন। তারা নানাভাবে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন। আমাকে মারধরও করেছেন। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও কোনো সুরাহা না করে চলে গেছে।’

সজিবের মা সংরক্ষিত নারী মেম্বার তাসলিমা বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে তিনমাস আগে ওই মেয়ের বিয়ে হয়। সপ্তাহখানেক আমাদের বাড়িতে থাকার পর বাবার বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে মামুনের বাড়িতে ও পরে মামুনের ভগ্নিপতির বাড়ি যায়। বর্তমানে সেখানেই আছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে ফেরাতে পারিনি। সে বলেছে মামুনকেই বিয়ে করবে।’

মামুনের ভগ্নিপতি মো. হারেছ মিয়া এ ঘটনায় বাদী হয়ে শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় ওই নারী ও তার বাবা-মাসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আলম সিদ্দিকীএ বিষয়ে গনমাধ্যমে বলেন, ‘মামলার এজাহার পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*