হতভাগ্য প্রেমিকের কাঁধে ভর করেই চিরশায়িত ফাহমিদা

মাত্র ১২ দিন আগেই গত ৯ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল সেন্টারে ক্যানসার আক্রান্ত প্রেমিকা ফাহমিদা কামালকে বিয়ে করেছিলেন প্রেমিক মাহমুদুল হাসান। প্রেমিকার মৃত্যু আসন্ন জেনেও সংসারজীবনে বাধা পড়েছিলেন তারা। মৃত্যু যে অবধারিত ছিল তা জানতেন ফাহমিদা।

কারণ চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর বাঁচার সম্ভাবনা নেই। তবুও প্রেমিক মাহমুদুলকে বিয়ে করার পর নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এরই মধ্যে জীবনের আলো নিভে গেলো ফাহমিদার। শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাঁধে ভর করেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রেমিকা ফাহমিদা কামাল।

চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে মারা যান ফাহমিদা কামাল। নাকে অক্সিজেনের নল, পরনে বিয়ের লাল বেনারসি, পাশে বর-এমন ছবিতে কোটি মানুষের চোখে জল আনা ফাহমিদার গল্পটা অসমাপ্তই রয়ে গেল। সোমবার দুপুরে ফাহমিদার মরদেহ নেওয়া হয় তার পৈতৃক ভিটা দক্ষিণ বাকলিয়া হাজী আবদুস সালাম মাস্টারের বাড়িতে।

অশ্রুসজল ফাহমিদার ভাই জুনায়েদ বলেন, গত এক বছর ধরে বোনটা আমার কী অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করল। দেশের হাসপাতাল থেকে ভারত, আবার দেশে ফিরিয়ে আনা, আমি আমার বোন থেকে একটু দূরে থাকতে পারতাম না। আজকে আমার বোনটা আমাকে ছেড়ে কত দূরে চলে গেলো। আর তো তাকে দেখতে পাব না। কী করে থাকব?

বাবা এসএম কামাল উদ্দিন বলেন, কাল (রোববার) মধ্যরাতে মেয়েটা আমার বলে উঠল, আব্বা শরীর কেমন করে। সে খুব অস্থির হয়ে উঠল। আমি বললাম, মা গো আল্লাহরে ডাকো। তিনি নিশ্চয় তোমারে ভালো করে দেবেন। আমার মেয়েটা তো বাঁচতেই চাইছিল।কিন্তু…

ফাহমিদাকে যখন প্রেমিক মাহমুদুল হাসান কাঁধে তুলেন তখন জানাজায় অংশগ্রহণকারী লোকজন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, সবার মাঝে পিনপতন নিরবতা চলে আসে। চোখে পানি আসে সবার। অবশেষে সেই প্রিয়তমাকে নিজ কাঁধেই নিয়ে চিরশায়িত করে আসেন মাহমুদুল হাসান।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের দক্ষিণ বাকলিয়ার চর চাক্তাই এলাকার বাসিন্দা ফাহমিদা কামাল গত বছরের জানুয়ারি মাসে আক্রান্ত হন রেকটাম ক্যান্সারে। পরে মরণব্যাধি এই রোগ থেকে বাঁচতে লড়াই শুরু করে ফাহমিদা ও তার পরিবার এবং স্বজনরা। এরইমধ্যে দেশের পাশাপাশি ভারতে গিয়েও করিয়েছেন চিকিৎসা। কিন্তু কোনো চিকিৎসা কাজে আসেনি।

ভারত থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতির বদলে আরও অবনতি হতে থাকে তার। দিন দিন ফাহমিদার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রামের তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শারীরিক এমন অবস্থার মধ্যেই ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন কক্সবাজারের চকরিয়ার সন্তান মাহমুদুল হাসান। তার এমন সিদ্ধান্তে অনেকটা হবাক হন সবাই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*